০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

হঠাৎ মামুনুল হক কেন জাতীয় সংসদের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬
হঠাৎ মামুনুল হক কেন জাতীয় সংসদের আলোচনায় মামুনুল হক
 

জাতীয় সংসদে বিএনপির এক সদস্যের বক্তব্য, স্পিকারের মন্তব্য, বিরোধী দলের প্রতিবাদ এবং পরে সেই বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সংসদে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত আলোচনা, তা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও রাজধানীতে বিক্ষোভের পর প্রশ্ন উঠেছে— হঠাৎ জাতীয় সংসদের আলোচনায় কেন মামুনুল হক?

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রসঙ্গ টানেন বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। তিনি বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়লেন মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল, আমি জানি না।’ এ সময় তিনি স্পিকারের কাছে মুতা বিয়ে কী, সে সম্পর্কেও জানতে চান।
 

আবু আশফাকের বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক কোনও বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়।’ 
 

খোন্দকার আবু আশফাকের উদ্দেশে স্পিকার আরও বলেন, ‘মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়?’ তবে মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘মুতা বিয়ে হলো, সম্ভবত কেউ বিদেশে গেলে, আগের কালে নিয়ম ছিল সাময়িক, এক মাসের জন্য ‘সো কল্ড’ বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন। এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করা ভালো।’

মামুনুল হকের বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ওই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিএনপির ওই সদস্যের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘মুতা বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মামুনুল হক সাহেবের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশড। বিয়ে করা জায়েজ।’

 

পরে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় বিষয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন। একি বিষয় নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মুজিবুর রহমানও আলোচনা করেছিলেন।

পরবর্তীকালে মামুনুল হককে নিয়ে সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, চাই না আমরা।’

সংসদে মামুনুল হকের বিষয়ে এত আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সংসদে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মামুনুল হক? কেনইবা মামুনুল হকের বিষয় নিয়ে এত আলোচনা?

সংসদে মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য, রাজধানীতে বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কটুক্তি ও অবিবেচক কথাবার্তা বলেছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। স্পিকারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলও করে সংগঠনটি।

বিক্ষোভ সমাবেশ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, ভবিষ্যতে যারা ফ্যাসিবাদের রাজনীতি করবে, তাদের পরিণতিও ফ্যাসিবাদীদের মতোই হবে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সংসদে একজন জনপ্রিয় আলেম ও বিরোধী মতের নেতাকে আক্রমণ করা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। একটি মীমাংসিত বিষয়ে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে যে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে, তার জন্য স্পিকারকে অবশ্যই জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

বিক্ষোভে সমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্য আবু আশফাকের অশালীন বক্তব্যের জন্য আদালত অবমাননা ও মানহানি মামলায় গ্রেফতার করে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ