‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’–এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং। মঙ্গলবার জার্মানির বন শহরে ডয়চে ভেলে ভবনেছবি: ডয়চে ভেলের সৌজন্যে
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য জার্মানির বন শহরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শতাধিক দেশের হাজারের বেশি সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের আয়োজনে ‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনের এই সম্মেলন হয়। মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং। তাঁর বক্তব্য প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
শুভ সকাল। আপনারা সবাই এখানে এসেছেন এবং গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন দেখে আমি খুবই আনন্দিত। প্রিয় প্রতিমন্ত্রী লেমিনস্কি, প্রিয় আইরিন খান, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়েরা এবং আমার প্রিয় সহকর্মীরা জার্মানির বনে আয়োজিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬-এ আপনাদের স্বাগত জানাই।
জার্মানির সাবেক পার্লামেন্টের এই ঐতিহাসিক ভবনে সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র উদ্যাপনের এ আয়োজনে আপনারা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দিয়েছেন। এতে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। আমার কাছে এটি দারুণ লাগছে যে আমরা বিশ্বের ১১০টির বেশি দেশ থেকে মানুষকে এক ছাদের নিচে আনতে পেরেছি। আমরা এখানে সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলব। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করব। গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের মূল উদ্দেশ্যই হলো এটি। বিভিন্ন দেশ, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নানা অভিজ্ঞতার মানুষদের একত্রিত করা হয়েছে যেন তাঁরা একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারেন।
আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘নির্ভীক, সোচ্চার সাংবাদিকতা’ (জার্নালিজম আউট লাউড)। এর অর্থ এই নয় যে সাংবাদিকতাকে শোরগোল করতে হবে। বরং ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এই পৃথিবীতে এর আওয়াজ শোনা যাওয়াটা খুবই জরুরি। এর অর্থ হলো মানুষকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে আমাদের সমাজে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি আবার নিশ্চিত করা।
এর অর্থ হলো মানুষকে একত্রিত করা, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং বর্তমানে সাংবাদিকতার রূপ কেমন হওয়া উচিত, তা অনুধাবন করাও এর অংশ। এটি হওয়া উচিত বিভাজন, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে এক মহৌষধ।