সরকারের জনমুখী অগ্রাধিকার কর্মসূচি তুলে ধরে ময়মনসিংহে তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং
ময়মনসিংহে তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং
মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো: বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর সুবিধা ও কার্যকারিতা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিং করেছে জেলা তথ্য অফিস। ব্রিফিংয়ে কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও পুনর্খনন, নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গৃহীত এসব কর্মসূচি সরাসরি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।সাংবাদিকরা যদি এসব উদ্যোগের তথ্য বস্তুনিষ্ঠভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে আরও বেশি মানুষ এ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন। ব্রিফিংয়ে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোঃ মাসুদ মিয়া ও জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আব্দুল কাইয়ূমসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং তথ্য অফিসের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ভর্তুকি মূল্যে সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি বীমা, প্রশিক্ষণ, বাজার ও আবহাওয়ার তথ্যসহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ কার্ড কৃষকের পরিচয়ের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসেও ভূমিকা রাখছে।
কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হয়, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণ এবং তার ওপর অর্জিত সব ধরনের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ডকে সরকারের ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির উপকারিতা তুলে ধরে মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ বলেন, এ উদ্যোগ শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ায়, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত 'পিংক বাস সার্ভিস' (ইলেকট্রিক বাস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত এ উদ্যোগে বাসের চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার সবাই নারী থাকবেন। এর মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কমেন্ট বক্স