ফেনীর পরশুরামে অ্যাম্বুলেন্সে মাদক পাচার
মূল হোতা প্রীতমের বাড়ির সামনে দুই আসামিকে লাইভ জিজ্ঞাসাবাদ
দুই আসামিকে লাইভ জিজ্ঞাসাবাদ
এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী: ফেনীর পরশুরামে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতীয় মদ পাচারের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে রিমান্ডে এনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) পরশুরাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দল আসামিদের সঙ্গে নিয়ে এই সরেজমিন তদন্ত চালায়। চাঞ্চল্যকর এই জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি পরশুরাম থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক পাচারের মূল হোতা হিসেবে সন্দেহভাজন ‘প্রীতম’ নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই আসামি-অ্যাম্বুলেন্স চালক জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগী অমি-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা কখন, কার নির্দেশে ও কীভাবে মাদক ভর্তি কার্টনগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলেছিল, সে বিষয়ে ওসির প্রশ্নের জবাব দেয়।
জিজ্ঞাসাবাদে চালক জসিম ও সহযোগী অমি পুলিশকে জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে প্রীতম নামের ওই ব্যক্তি কার্টনগুলো ঢাকা নেওয়ার কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছিল। সে সময় কার্টনগুলোতে কাচের জিনিস ও হোমিও ওষুধ রয়েছে বলে চালককে জানানো হয়েছিল। তবে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী একটি জরুরি গাড়িতে কেন রোগী ছাড়া শুধু কার্টন নিয়ে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল-এ বিষয়ে চালক বা সহযোগী কেউই কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
এর আগে, গত ২০ জুন সকালে ফেনী-পরশুরাম সড়কের আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজের সামনে সাইরেন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা একটি অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তল্লাশি চালায় পরশুরাম থানা পুলিশ। তখন গাড়ির ভেতরে রোগীর সিটের ওপর রাখা কার্টন থেকে ১১৭ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
ওই দিনই অ্যাম্বুলেন্স চালক ও উপজেলার পশ্চিম সাহেবনগর গ্রামের আলী আশরাফের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৫১), পৌর এলাকার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মিনহাজুর রহমান প্রকাশ অমি (২১) এর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের পর অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে এনে আজ এই তদন্ত চালায়।
এদিকে ১১৭ বোতল মদ পাচারের এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক পাচারের মূল হোতা হিসেবে প্রীতমকে চিহ্নিত করে তাকে এই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি উঠেছে।
পরশুরাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কমেন্ট বক্স