১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক, জনপ্রতি সরকারি বরাদ্দ ৩২ টাকা, সঙ্গে ২৭০ গ্রাম চাল

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৬
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক, জনপ্রতি সরকারি বরাদ্দ ৩২ টাকা, সঙ্গে ২৭০ গ্রাম চাল দুর্গতরা ঘরবাড়ি পুনর্গঠনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন
 

রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের। জেলায় এ পর্যন্ত ১৩৫টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং তিন জন প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে বন্যায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বিপরীতে সরকারিভাবে যে ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যা ও পাহাড় ধসে জেলায় মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে সরকারিভাবে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে; যার সুবিধা পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৪৬ জন। অর্থাৎ ৭৬ হাজার ৭১৭ জন মানুষ এখনও সরকারি কোনও সুবিধার আওতায় আসেননি। জেলার মোট বরাদ্দের ৩৫ লাখ টাকা ও ২৯৫ টন চাল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ভাগ করে দিলে মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁডায় মাত্র ৩২ টাকা এবং ২৭০ গ্রাম চাল।

 

বর্তমানে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে পানি যাওয়ায় দুর্গতরা ঘরবাড়ি পুনর্গঠনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি; বিশেষ করে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

বন্যা২বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক

বন্যায় জেলায় ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২৫টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলার অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শত শত বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও কাদা-পানিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে; সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে বসতঘর হারিয়ে দিশেহারা অনেক পরিবার এখন ত্রাণের বদলে ঘর পুনর্গঠনে সরকারি সহায়তা দাবি করছে।

 

জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যায় আনুমানিক ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২৫টি সেতু-কালভার্ট এবং ৫৪৬.৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ফসলি জমি এবং মৎস্যখাতে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় ২৯৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে রাঙামাটি সদর ও পৌরসভায় ৪০, লংগদু ২০, কাউখালী ৩০, বরকল ২০, বাঘাইড়ি ৪৫, জুরাছড়ি ১০, নানিয়ারচর ১০, কাপ্তাই ৫০, বিলাইছড়ি ৫০, রাজস্থলী ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কর হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন  জানান, ফারুয়া বাজারের ৭২টি দোকান এবং ১ হাজার ৯৮২টি বসতঘর বন্যার পানিতে ডুবে ছিল, যার মধ্যে ২৭৪টি স্থাপনা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যবসায়ীরা বাজারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও বন বিভাগের আইনি জটিলতায় তা আটকে আছে।

অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানান, উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল এবং ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি ছিল। বর্তমানে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৯৫ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ফাইবার বোট প্রদান এবং পুনর্বাসনের জন্য ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ মঞ্জুরির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ