সংগৃহীত ছবি
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ইতিহাসের অন্যতম খারাপ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ফাইনালিস্ট দল পুরো ম্যাচে একটিও শট নিতে ব্যর্থ হলো। লিওনেল মেসিকে সামনে রেখেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল পুরোপুরি নিষ্প্রভ।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও ছন্দ ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখলেও নিজেদের গোলপোস্টে কোনো হুমকি তৈরি হতে দেয়নি ইউরোপের দলটি। ফলে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে কার্যত কোনো সেভই করতে হয়নি।
প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার দুর্দশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরতিতে যাওয়ার আগে তারা কোনো শট নিতে পারেনি। একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে সবচেয়ে কম শটের রেকর্ডও গড়ে ম্যাচটি। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের মিলিয়ে শট ছিল মাত্র তিনটি, যার সবগুলোই নিয়েছিল স্পেন।
এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে কম শট নেওয়ার নেতিবাচক রেকর্ডও ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিল দিয়েগো মারাদোনার দল। রোমের সেই ম্যাচে মারাদোনার একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়, যা ছিল আর্জেন্টিনার একমাত্র প্রচেষ্টা। পরে আন্দ্রেয়াস ব্রেহমের পেনাল্টিতে ১-০ গোলে জয় পায় পশ্চিম জার্মানি।
তবে ৩৬ বছর পর সেই হতাশাজনক রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিপক্ষে আক্রমণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে নতুন এক নেতিবাচক নজির হিসেবে যুক্ত হলো।