রাজশাহীতে দৈনিক মজুরি কর্মচারীদের মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী: সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকরির আইনি নিশ্চয়তা, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী জেলার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ জন দৈনিক মজুরি ও মাস্টাররোল কর্মচারী অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, সদস্য সচিব মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সিনিয়র যুগ্ম সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন, সদস্য মোঃ হেলাল শেখ, মোঃ স্বাধীন ইসলামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও বহু দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীকে কোনো বৈধ কারণ বা যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত তিন হাজারেরও বেশি কর্মচারীকে স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল করতে হবে এবং দৈনিক মজুরি কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় হস্তান্তরের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া, ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিল করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দৈনিক মজুরিভিত্তিক (মাস্টাররোল) কর্মচারীদের বয়সসীমা শিথিলের মাধ্যমে স্থায়ীকরণ বা আত্মীকরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে নেতারা অভিযোগ করেন, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ জারি করা ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি শ্রম আইন সংশোধন-২০২৬-এর চেতনাবিরোধী। এ নীতিমালাকে তারা ‘দাসপ্রথার’ সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেতারা বলেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রয়েছে। তবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে ৯ আগস্ট বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির নেতৃত্বে অর্থ সচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
কমেন্ট বক্স