ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
ডালিয়া পয়েন্ট
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ী ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার (৫ আগষ্ট) সকাল ৬টায় ও ৯টায় ওই পয়েন্টে পানির সমতল রের্কড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২ টায় ওই পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে (৫২.২১ সেন্টি) ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
পাউবোর গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম জানান, গত দুইদিন আগে ডালিয়া পয়েন্টে সমতল রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার। আজ হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ সকালে ডালিয়া পয়েন্টে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছ ১৩২ দশমিক শুন্য মিলিমিটার।
তিনি বলেন, উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি উঠানামা করায় ১৫ দিনের মাথায় আজকে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, জেলার ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় চর গ্রামের বাড়ী ঘরে পানী প্রবেশ করায় প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
এছাড়াও তিস্তা তীরবর্তী নিন্মাঞ্চাল তলিয়ে গিয়ে ফসলি জমি, পুকুরের মাছ ও গবাদী পশুসহ রাস্তাঘাট, শাকসবজি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। এছাড়াও, উপজেলার গোপালঝাড় ও আলসিয়া পাড়ার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে তলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, জেলার ডিমলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলের পরিবার গুলো বারবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। ফসলি জমি, শাকসবজি ও পুকুরের মাছ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব পরিবারে দ্রæত সরকারী সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের আহব্বান জানান তিনি।
এদিকে, পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নের চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরে বন্যার পানী প্রবেশ করায় সেখানকার শতশত পরিবার দূর্ভোগে পড়েছে। চুলা জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি নেই তাদের। বারবার বন্যা কবলিত হয়ে এসব মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করেন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে আজ সকাল ৬টায় ও ৯টায় বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে দুপুরে ৭ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সাময়িকভাবে ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি বানভাসি মানুষের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্লাবিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এদিকে, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পাউবো।
কমেন্ট বক্স