নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো তদন্ত নথিতে জালিয়াতির তথ্য
সংগৃহীত ছবি
মাহামুদ হোসাইন, পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এস এম দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী নিয়োগের চেষ্টা, আবেদন গ্রহণে অনিয়ম এবং যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের একটি সরকারি তদন্ত নথিতে তথ্য গোপন, জাল কাগজপত্র ব্যবহার ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল মিনা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই অর্থের বিনিময়ে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারি ছুটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় আবেদনপত্র গ্রহণ করায় অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি মাদ্রাসার সামনে সুপারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে ২৫ আগস্ট ২০১৬ তারিখের নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তদন্তসংক্রান্ত নথিতে সুপার আব্দুল মান্নানের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। মো. জাহিদুল ইসলাম মিনা নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তদন্ত করা হয়।
নথিতে মাদ্রাসার মো. ইলিয়াস হোসেনের এমপিওভুক্তি নিয়েও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে দাবি করা হয়, ২০০৫ সালের একটি ভুয়া রেজুলেশন তৈরি এবং সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর জাল করে ইলিয়াস হোসেনকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে এমপিও বাতিল ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের কথাও নথিতে রয়েছে। ওই সময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ করে জানান, ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত কমন রুমটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের বাইরে। সেখানে বেড, আলমারি ও গৃহস্থালি সামগ্রী রেখে সুপার ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং রান্নাবান্নাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুপার মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ হইছে। এই অভিযোগ দিয়ে আমার কিছু হবে না। আর কেহ কিছু করতে পারে নাই। আমারও লোক আছে।”
পিরোজপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২০১৬ সালের তদন্ত নথিতে থাকা অভিযোগগুলোর পরবর্তী আইনগত পরিণতি কী হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে বর্তমান নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতাও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো নথি ও বর্তমান অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।
কমেন্ট বক্স