০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে মোহন বলেন, ‘আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬
মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে মোহন বলেন, ‘আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সংগৃহীত ছবি


‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি।

 
ছাওয়ালটা বলে- মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো।
 
আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।
’ 

এভাবেই আহাজারি করছেন নিহত সুমন এবং মোহনের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

 

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লেগে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। যাদের মধ্যে রয়েছেন মোহন ও তার ভাই সুমন। এছাড়া এ গ্রামের আরও দুজন এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন। 

ময়না খাতুন বলেন, ‘কাল বড় (মোহন) ব্যাটার সাথে সকালে কথা কইছি। ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়ে আসবে। যখন আগুন লাগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিলো না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলে মারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদের দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলতেছিল- এসে বিয়া করমু মা- মেয়া দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’ 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
 

সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ