০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

​পটুয়াখালীতে ব্রি’র এলএসটিডি প্রকল্পের অধীনে ৪০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৬
​পটুয়াখালীতে ব্রি’র এলএসটিডি প্রকল্পের অধীনে ৪০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ কৃষি উপকরণ বিতরণ

আবুল বাশার, পটুয়াখালী : উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই ধান উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামের ৪০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর ব্যবস্থাপনায় এবং “নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)” প্রকল্পের উদ্যোগে এ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে পটুয়াখালী খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ আমানুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কার্যালয় প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এলএসটিডি প্রকল্পের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ আমানুল ইসলাম বলেন, ‘‘উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের প্রতিবছর জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে আমন মৌসুমে ব্রি উদ্ভাবিত জলবায়ু-সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত চাষ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্রি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ উপকূলের কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’’

​ব্রি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান বলেন, ‘‘এলএসটিডি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বৈজ্ঞানিক উপায়ে সঠিক মাত্রায় সার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন ও আয় বৃদ্ধি পাবে।’’

​এ বিষয়ে এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, উপকূলীয় কৃষি আজ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী আধুনিক ধানের জাত ও সার সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশে টেকসই ধান উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

​কর্মসূচীর আওতায় পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামের নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সারসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক, বালাইনাশক ও সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়। সময়মতো মানসম্মত এসব কৃষি উপকরণ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এলাকার কৃষকরা।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) তাদের এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে স্থানভিত্তিক ধানের জাত উদ্ভাবন, যাচাই এবং প্রযুক্তি গ্রাম গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ