ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেনগারা প্রদেশের মাউমেরেতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬। ছবি: ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা/এপি
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
সুহারিয়ান্তো বলেন, জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য তিনটি হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশটি অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে গঠিত হওয়ায় সেখানে যোগাযোগ ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব বাহন দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমেও সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন।
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশের প্রধান রুদি দারমোকো বলেন, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হচ্ছে এবং উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমও জটিল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর সংগ্রহ করে চলেছি। তবে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।’
দারমোকো জানান, এনদে এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফ্লোরেস দ্বীপের লাবুয়ান বাজো থেকে লারানতুকা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি পাকা সড়ক ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মীরা শয্যা, স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ড ও অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বাইরে নিয়ে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছেন।
ফ্লোরেস দ্বীপজুড়ে কম্পন
ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেছে।
সিক্কা এলাকার বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু বলেন, তীব্র কম্পনে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষ উঁচু এলাকায় ছুটে যান।