নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাটে ত্রিশূলী নদীর তীরে আকস্মিক বন্যায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করছেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: নিরঞ্জন শ্রেষ্ঠ/এপি
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বন্যার ত্রয়োদশ দিনে এসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
হিন্দুপ্রধান দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুর পর ১৩ দিন শোক পালন করা হয়। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজন ও পরিচিতরা তাদের সমবেদনা জানাতে যান। ত্রয়োদশ দিনে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
যেসব পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ, তাদের অনেকেই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান পালন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। প্রিয়জনের মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে কিছু পরিবার। তাদের কাছে এটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর আগে, সোমবারকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে নেপাল সরকার এবং সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়।
গেল শনিবার উদ্ধারকারীরা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেন। এর আগে শুক্রবার ওই কেন্দ্র থেকে দুই নেপালি কর্মীকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা এখন ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে আরও জোরদার করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন টানেলে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল এসব প্রকল্পের ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও টানেলে তল্লাশি চালাচ্ছে। তারা জীবিতদের উদ্ধারের আশায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।