উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রান্নার গ্যাস খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি
যায়েদুর রহমান, উখিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রান্নার জন্য সরবরাহ করা জ্বালানি গ্যাস খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্যাম্পে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা এসব গ্যাসের একটি অংশ বিভিন্নভাবে ক্যাম্পের বাইরে চলে এসে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বালুখালী বাজার, থাইংখালী বাজার, কুতুপালং বাজার ও উখিয়া দারোগা বাজারে ক্যাম্প থেকে বাইরে আসা কথিত এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারের ডিলারদের কাছ থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে যেখানে প্রায় ১৬২০ টাকা দিতে হচ্ছে, সেখানে ক্যাম্প থেকে বাইরে আসা গ্যাসের সিলিন্ডার প্রায় ১৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তারা দাবি করছেন। দামের এই পার্থক্যের কারণে কম দামে গ্যাস পাওয়ার আশায় কিছু ক্রেতা এসব সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে আরও গুরুতর বিষয় হলো, ক্যাম্প থেকে খোলা বাজারে আসা কিছু সিলিন্ডারে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা। ফলে কম দামে সিলিন্ডার কেনা হলেও গ্যাসের পরিমাণ কম থাকায় ভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত গ্যাস কীভাবে ক্যাম্পের বাইরে যাচ্ছে? সরবরাহের পর সিলিন্ডারগুলো কার কাছে থাকছে, কীভাবে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে এবং বিতরণের পর এর হিসাব কে রাখছে, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় - বরং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ সহায়তা সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় নজরদারি ও জবাবদিহিতার ঘাটতিরও ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া কথিত ক্যাম্পের সিলিন্ডারের ওজন, গ্যাসের উৎস, সরবরাহের রেকর্ড এবং বিক্রির চেইন পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ গ্যাস যদি সত্যিই বাইরে বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এতদিন ধরে বিষয়টি নজরদারির বাইরে থাকল কীভাবে?
বিষয়টি জানতে চাইলে ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করার শর্তেও রোহিঙ্গারা কীভাবে গ্যাস বের করে বাইরে বিক্রি করে, তা বোধগম্য নয়।”
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কমেন্ট বক্স