চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে
আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হতো পদ্মার ইলিশ। এখন সেই ভারতের ইলিশের বড় একটি অংশ আসছে বাংলাদেশে। ভারতীয় ইলিশের পাশাপাশি মিয়ানমারের ইলিশও ঢুকছে দেশের বাজারে। বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কম দামে এসব বিদেশি ইলিশ বিক্রি হলেও ক্রেতাদের অনেকের কাছে তা ‘পদ্মার ইলিশ’ বা দেশি ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
আমদানিকারকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা এক কেজি ইলিশের দাম শুল্ক ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৫১৪ টাকা পড়ে। অথচ সেই মাছই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। বিপরীতে একই আকারের দেশি ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। ফলে কম দামের কারণে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের পরিচয়ে বিক্রি করায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরাও বাজার হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
দুই মাসে আমদানি সাড়ে ৩ লাখ কেজি
কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ এসেছে।
দুই মাসে আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিশ ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা করেই আমরা কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকি।’