৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

​গাজীপুরে ব্রিফকেসে নারীর খন্ডিত মরদেহ

হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, পিবিআই

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬
হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, পিবিআই ডলি আক্তার

আব্দুল মালেক মিয়া, ব্যুরো চীফ গাজীপুর : পিবিআই,জানান প্রেমের সম্পর্ক, বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড লাশ গুম করেও শেষ রক্ষা হয়নি।  তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে ডলি আক্তার হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য। নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে মোঃ মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিঃ রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় গেলে পূর্বের বিরোধ ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশন তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। মিশনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকার সময় লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ও বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

হত্যার পর শুরু হয় লাশ গুমের চেষ্টা। পরদিন মিশন বটি দা ও ব্লেড দিয়ে মৃতদেহটি কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে। একাংশ স্যুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতায় ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার খালে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু অপরাধের আলামত ও তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। পিবিআইয়ের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ক্রাইমসিন ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃতার পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা উদঘাটিত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও পচনশীল হওয়ায় মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা প্রথমে কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।” গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ