সুনামগঞ্জে সবজি বাজারে অস্থির
সংগৃহীত ছবি
শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে সবজি বাজারে অস্থির। ঢাকা রাজধানীর সাথে তাল মিলিয়ে সবজি বাজার উর্ধগতির প্রভাব এসে পড়েছে সুনামগঞ্জও। অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধু পাইকারি ও খুচরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেল বৃদ্ধি ও গ্যাস সংকট দেখিয়ে মালবাহী ট্রাক ও নৌকার ভাড়া আগের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে পরিবহন গুলো। এই অজুহাত দেখিয়ে সবজি বাজার দাম অস্থির করে রেখেছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
সবজি আড়ৎদার ব্যবসায়িরা খুচরা ব্যাবসায়ীদেরকে কোন ধরেনর দাম দর করার সুযোগ না দিয়ে এক দামে ক্রয় করতে বাধ্য করছেন পাইকারি ব্যবসায়িরা। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে খুচরা ব্যবসায়িরাও চড়া দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক সপ্তাহের ব্যাবধানে খুচরা বাজারে সবজির দাম লাগাম টেনে সহন শীলতায় রাখা যাচ্ছেনা। বিভিন্ন সবজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১০০ টাকা। নিম্নআয়ের মানুষ ও সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ফলে আয় বুঝে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ ক্রয় করতে পারছেন না। হিমশিম খেতে হচ্ছে এসব লোকদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,খুচরা কাঁচা বাজার এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। এক সপ্তাহ আগে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে পটলের দাম ছিলো ৬০ টাকা কেজি, এখন দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ৯০ টাকা কেজি বেগুনের দাম বেড়ে এখন ১২০ টাকা ছাড়া বিক্রি করছেন না। মুলা ৮০ টাকা। পুড়ল এক সপ্তাহে আগে ছিল ৭০ টাকা,এখন ৮০টাকা ।
এক সপ্তাহে আগে গাজরের দাম ছিল ১০০ টাকা,এখন ১২০ টাকা ছাড়া ছাড়ছেন না বিক্রেতারা। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কড়লা দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়। আর ৬০ টাকা কেজি দরের মুখী এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে।
পুঁইশাক কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায বিক্রি করছেন কুচরা ব্যবসায়ীরা। কচুর লতি চিকনটা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। মোটা কচুর লতি ৫০ টাকা,বিক্রি করছে। কচুর মুড়া পিস মাঝারি,৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি করছে। চিচিঙ্গা ৫০টাকা,ডেড়স,৬০টাকা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে টেমোট,১০০ টাকা এখন ১৩০ টাকা।
ছোট লাউ ৭০ টাকা বড় ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা,পেপে এক সপ্তাহে ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ২০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন বিক্রি করছেন৩০ টাকায়। লাল শাকছোট আটি ২০ টাকা মাঝারি আটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আমড়া ৬০ টাকা, দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যাবসায়ীরা।
গত এক সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হক বলেন,আমি চাকরিজীবি হিসাবে মাসের শেষ যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালাতে পারিনা। সবজি বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি,এখানে শক্ত সিন্ডিকেট রয়েছে। দাম শুনে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। কেনা কাটায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাহিদা মেটাতে পারিনা।
সুনামগঞ্জ পৌর কিচেন মার্কেটে আসা দিনমজুর কুদ্দুস আলী বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। এভাবে সবজির দাম বাড়লে আমরা কি করে বাঁচবো। কাচা মরিচের যে দাম কেমনে কিইন্না(কিনে) খাইমু (খাব)। সারা দিনে যা কামাই করি, একটা কিনলে আরেকটা কিনতে পারি না। সরকার কি আইন দিয়া দেখতে পারে না। সবজি কেনা খুব কষ্ট হয়ে
যাইতেছে।
নিম্ন আয়ের মহিলা মাটি কাটা শ্রমিক আয়শা খাতুন আজকের আওয়াজকে বলেন আমার পরিবারে স্বামীসহ ৬ সদস্য আছে। স্বামী অসুস্থ্য ঠিক মত চিকিৎসা করাতে পারি না। তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে মুজুরী পাই। তা দিয়ে চলতে হয়। সংসারে ভরনপোষণের যোগাড় করতে হয়। যখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে যাই বাজারে মাছ ও সবজি বাজারে দাম শুনে মাথা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মত। মাছ কিনলে সবজি কিনতে পারি না। চাহিদা থেকেই যায়। গরিব সব সময় অসহায় কিছুই করা যায় না।
রাস্তায় বসে খুচরা সবজি ব্যাবসায়ী আজিজুল হক জানান, আগে লাভ করতে পারতাম। এখন দাম বাড়তি হওয়ায় লাভ করা কষ্ট হয়ে যাইতেছে। সবজির দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে ক্রেতারা পরিমানে কম ক্রয় করছেন। যার কারণে আমাদের সবজি ধীর গতিতে বিক্রয় হচ্ছে। এতে অবশিষ্ট অংশ কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। উৎপাদন কেন্দ্রে জায়গা গুলোতে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানান খুচরা সবজি ব্যবসায়ীরা। কয়েক সপ্তাহ আগে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম আকাশ ছোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামরিচ বিক্রয় করতে হিমশিমে পড়েছি। এখন অনেকটাই কমেছে।
এদিকে সবজি বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা জানান আমরা পাইকারী ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আমদানী করে থাকি। বেশির ভাগ দিনাজপুর মানিকগঞ্জের মালই বেশি আনা হয় বেশি। বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় আবহাওয়া অনুকুলে থাকে না। সবজি আবাদে বা ক্ষেতে অতিবৃষ্টিতে বিনষ্ট হয়ে যায়। আমরা খবর নিয়েছি মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলার কম-বেশি সব সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ শাক সবজি। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচামরিচ ক্ষেত। ফলে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেমে এসেছে অর্ধেকে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
কমেন্ট বক্স