৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

​সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে তিন বছরে ১৬১ জন মেডিকেলে ভর্তি

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬
​সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে তিন বছরে ১৬১ জন মেডিকেলে ভর্তি সংগৃহীত ছবি

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে ১৬১ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।  এরমধ্যে ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৫৯ জন, ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৫৩ জন ও ২৫-২৬ শিক্ষা বর্ষে ৪৯ জন।

ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, বুয়েট, চুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। গত ২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে ৫২ জন শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। এনিয়ে ২১৩ জন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।

সৈয়দপুরের সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুজ্জামান জানান, ১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে (টেকনিক্যাল) কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে একটি। টার্গেট ছিল ওই বিদ্যালয় থেকে কারখানার জন্য দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরী করা। পরে ১৯৭৭ সালে বিদ্যালয়টি মহাবিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

স্কুল শাখার ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বিনহাজুল আবেদীন, হাসনাইন হাসিম রুমোন, জুনাইদ ইসলাম জানান, এই কলেজের স্যাররা আমাদের যতেষ্ট ভালবাসেন। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন ছাড় দেন না, তেমনি আদর সোহাগের মধ্যদিয়ে ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে নেন। একারণে প্রতিবছর আমাদের কলেজ থেকে মেডিকেল কলেজ, বুয়েট ও চুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। স্যারদের দিন রাত পরিশ্রমে এই সাফল্য পেয়ে থাকি আমরা।

৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরাফাতের বাবা আল-আমিন বলেন, আমার ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছে। এবার ৭ম শ্রেণীতে পড়ছে। আমি ভাবতে পারিনি এই কলেজে ছেলেকে পড়াতে পারবো। এখানকার শিক্ষারমান ও পরিবেশ আমার ছেলেকে মুগ্ধু করেছে। স্কুলে যাওয়ার কথা বলাই লাগে না। বরং ওর মাকে সকালে ডেকে বলেন, আমাকে রেডি করে দাও স্কুলে যাব।

স্কুল শাখার সিনিয়র শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভিত মজবুত হলে শিক্ষার্থীরা ওপরের ক্লাসে ভাল ফলাফল করতে পারে। আমাদের বিদ্যালয়ে শরীর চর্চা থেকে শুরু করে সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ রয়েছে। ক্লাসের ফাঁকে তাদের উৎসাহিত করতে আমরা বিনোদনের ব্যবস্থা করে থাকি। ফলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিংহভাগ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। গত বছর দিনাজপুর বোর্ডে পঞ্চম স্থান লাভ করেছিল।

কলেজটির অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ২১৩ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সফলতা অর্জন করেছে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের পূর্বে নাম ছিল সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় (টেকনিক্যাল কলেজ)। পরে ২০২০ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কতৃক এর নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে উন্নীত করেন। কলেজটিতে কেবল বিজ্ঞান বিষয়ে কলেজ শাখায় ৪৪০ জন শিক্ষার্থী ও স্কুল শাখায় ৭০০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। ওই উপজেলায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ