পবায় ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা প্রদানের উদ্বোধন করলেন এমপি মিলন
সংগৃহীত ছবি
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী : রাজশাহীর পবা উপজেলায় প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিনা মূল্যে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বিনা মূল্যে টিকা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রান্তিক খামারি ও কৃষকেরা।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। এ সময় সকাল থেকেই তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে ভিড় করেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে পশুপাখি মারা যাওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। রোগ প্রতিরোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিনা মূল্যে টিকাদানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজার দিয়াড় এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পবা উপজেলাকে অত্যন্ত উর্বর এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উপজেলায় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন।
প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, গ্রামের অনেক পরিবার বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে থাকে। কিন্তু এসব পশুপাখির মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পশুপাখি মারা যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারের আয়ের প্রধান একটি উৎস।
তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং প্রাণিসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের জন্য ২ হাজার, বাদলা রোগের জন্য ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের জন্য ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। ছাগলের পিপিআর রোগের জন্য ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের জন্য ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের জন্য ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মোট ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়া হবে।
টিকা নিতে আসা তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক বলেন, তাঁর ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে আমরা খুবই উপকৃত।’
বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, তিনি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছেন। নিজের খরচে সব সময় পশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, হাঁস-মুরগি তাঁদের পরিবারের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়লে একসঙ্গে অনেক হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনা মূল্যে ডাকপ্লেগ রোগের টিকা পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত করা হলে প্রান্তিক খামারিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।
টিকাদান কর্মসূচিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোঃ সোহরাব খানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স