০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

​গোয়ালন্দে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা প্রথা বন্ধ করতে শহরে ইউএনও'র মাইকিং

আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬
​গোয়ালন্দে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা প্রথা বন্ধ করতে শহরে ইউএনও'র মাইকিং ​গোয়ালন্দে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা প্রথা বন্ধ করতে শহরে ইউএনও'র মাইকিং

মোঃ মজিবুর জুয়েল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধলতা প্রথার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে শহরে মাইকিং করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে এ মাইকিং শুরু হয়। স্হানীয়দের আশা এতে করে কৃষি পন্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা প্রথা বন্ধ হবে। প্রচারনার পরও কেউ এ আদেশ অমান্য করলে তাকে আইনের আওতায় আনার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে মাইকিংয়ে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কৃষি পন্যের ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতার নামে প্রতি মনে ১ কেজি থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত বাড়তি পন্য আদায়,সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি, কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা কৃষক সমিতি। পরে উপজেলা উপজেলা কৃষক সমিতির পক্ষ হতে কয়েকশ কৃষক নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গোয়ালন্দ একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানকার হাটবাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।

আড়তদাররা এক প্রকার জোর করেই প্রতি মণ পন্যে ১/৪ কেজি পর্যন্ত ‘ধলতা’ আদায় করে থাকে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৯ কেজি ৯০০ গ্রাম বা ৪০ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজন হলেও অতিরিক্ত ৯০০ গ্রাম হিসাবের বাইরে বাদ দেওয়া হয়। এতে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিক্রিত পন্যের মূল্যও ঠিকমতো পরিশোধ করা হয়না। স্লীপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে এবং একটি তারিখ দিয়ে বলা হয় ওইদিন টাকা নিতে আসবেন।কিন্তু সেই দিনেও অনেক আড়ৎদার পুরো টাকা দেন না।

উপজেলার উজানচর এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক, কাশেম মন্ডল, সাত্তার সরদার সহ কয়েকজন জানান, গোয়ালন্দ বাজারে ধলতা আদায়, ঠিকমতো পাওনা পরিশোধ না করা সহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। তাই ধান, পাট, পেয়াজসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রির জন্য  এখন আমরা গোয়ালন্দ বাজারের পরিবর্তে আশপাশে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে থাকি।

কৃষক সমিতির নেতা মজিবুর রহমান জানান, বলেন, কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাই কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ধলতা প্রথা বন্ধ, কৃষি পন্যের উৎপাদন খরচ কমানো  এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন আড়ৎদার বলেন, কাঁচাপন্য প্রায়ই কিছুটা পঁচে যায় এবং শুকিয়ে ওজন কমে যায়। তাই ঘাটতি মেটাতে গৃহস্থের সাথে কথা বলেই প্রতি মনে ১/২ কেজি বেশি নিয়ে থাকি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, কৃষক সমিতির দাবি যাচাই করে আমরা জানতে পেরেছি কৃষি-পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে গোয়ালন্দ বাজারে ধলতা প্রথা চালু রয়েছে। এভাবে বাড়তি পন্য আদায় করা যাবে না। প্রাথমিকভাবে এ ধলতা প্রথা বন্ধ করতে আমরা শহরে সতর্কতা মূলক মাইকিং করেছি। এতে কাজ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ