৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বছরে ১১ লাখ যাত্রীর রেকর্ড

ইসরায়েলিদের এত জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠল দুবাই কীভাবে

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬
ইসরায়েলিদের এত জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠল দুবাই কীভাবে সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়ার পর সেটি দুবাই থেকে ফিরছিল- এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ইসরায়েল ও দুবাইয়ের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ বিমান যোগাযোগ। গত কয়েক বছরে দুবাই ইসরায়েলিদের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ২০২০ সালে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও পুনরায় চালু করে।

এরপর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বিমান যোগাযোগ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের চাহিদা বাড়তে থাকায় ইসরায়েল ও আমিরাতভিত্তিক বিভিন্ন এয়ারলাইন এই রুটে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই ও তেল আবিবের মধ্যে সাধারণত প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭০টি ফ্লাইট চলাচল করে। এই রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে আমিরাতভিত্তিক এয়ারলাইন ফ্লাইদুবাই। পাশাপাশি দেশটির অন্যতম বৃহৎ এয়ারলাইন এমিরেটস এবং ইসরায়েলের ইসরএয়ার ও এল আলও এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিমান চলাচলের এই ব্যাপকতা ইসরায়েলিদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দুবাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। 

বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১১ লাখ ইসরায়েলি যাত্রী দুবাই ভ্রমণ করেছেন। অর্থাৎ ওই বছর ইসরায়েলিদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর বদলে যায় যোগাযোগ
ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আগে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান যোগাযোগ ছিল না। ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য দুবাই সহজলভ্য হয়ে ওঠে এবং একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মানুষের সরাসরি যাতায়াত বাড়ে।

দুবাইয়ের পর্যটন অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শপিং ও বিনোদনকেন্দ্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে এর অবস্থান ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে শহরটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাত্রীদের চাহিদা পূরণে নিয়মিত বিমান চলাচলও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তেল আবিব- দুবাই রুটটি দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিমানপথগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেও এই বিমান করিডোরের গুরুত্ব বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কোনও ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন বা বাতিল হলে তার প্রভাবও তাই বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি যাত্রীর ওপর পড়তে পারে। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের সাম্প্রতিক ঘটনাটিও সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

সব মিলিয়ে, ২০২০ সালের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে দুবাই ইসরায়েলিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন, ব্যবসা ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ঘন ঘন ফ্লাইট চলাচল সেই সম্পর্কের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি। সূত্র: সিএনএন



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ