০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের প্রস্তাবে আপত্তি নয়, বাস্তবায়নের ধাপ বদলাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬
ইরানের প্রস্তাবে আপত্তি নয়, বাস্তবায়নের ধাপ বদলাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি
 

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে মূল বিষয়বস্তুর চেয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি ও ধাপের ক্রম পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক।

কাতারে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক লুচিয়ানো জাকারার মতে, ওয়াশিংটনের নতুন প্রস্তাব থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সংঘাত অবসানে যে সাত দিনের পরিকল্পনা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সেটির সময়সীমা বা বাস্তবায়নের ক্রমে পরিবর্তন আনতে চাইছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকার চেয়ে বরং চুক্তির বিভিন্ন দিক কীভাবে এবং কোন ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই এখন মূল মতপার্থক্যের জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, তারা কী নিয়ে আলোচনা করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি করছে না। বরং চুক্তির বিভিন্ন দিক বাস্তবায়নের ক্রম কী হবে, সেটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।”

এর আগে ইরান সংঘাতের অবসানে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক চাপ কমানো, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির হিমায়িত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাব ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাবিত ধারাবাহিকতা বা সময়সূচি সরাসরি গ্রহণ না করে বিভিন্ন পদক্ষেপের ক্রম পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন শুধু কী কী শর্তে সমঝোতা হবে, তা নয়; বরং কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাকারার বলেন, দুই পক্ষই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইছে।

তার ভাষায়, “আমি মনে করি, উভয় পক্ষই একই সময়ে নিজেদের মুখ রক্ষা করে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্তের পাশাপাশি ‘কে আগে কী করবে’- এই প্রশ্নটিই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। কারণ যুদ্ধবিরতি বা সংঘাতের অবসানের ক্ষেত্রে এক পক্ষের পদক্ষেপের পর অন্য পক্ষ প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে- এমন পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি থাকলে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে দর-কষাকষি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবকে সরাসরি চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখার পরিবর্তে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কাঠামো ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল-জাজিরা



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ