ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রাকে তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখেছেন, সর্বোচ্চভাবে তা সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফেরার পথে এক দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রে চার দিন অবস্থান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে আরও কিছু অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন, ছয়টি বক্তব্য দেন এবং একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনের সফরে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।
সার্বিকভাবে সফরকালে বাংলাদেশ ৮০টির বেশি পৃথক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনকল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দেশগুলো হলো পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি। প্রতিটি বৈঠকেই তারেক রহমান সমতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন মাহ্দী।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চায়, যাতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বনির্ভরতা, স্বাবলম্বিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সফরটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়কে প্রতিফলিত করেছে এবং সমতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সফরের পুরোটা সময় দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে আয়োজিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারেক রহমান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, মিয়ানমারে উদ্ভূত এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই করা সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুটি কাজ করতে হবে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ সৃষ্টি ও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীজন ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে উপদেষ্টা জানান।
তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক এই সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এই সমন্বয়কে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।
তারেক রহমানের ভাষণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন।