সদরপুরে আশ্রয়হীনদের আশ্রয় এখন দুর্ভোগের কারন
৫২ ঘরের প্রকল্পে এখন বসবাস ১৫ পরিবারের
সংগৃহীত ছবি
শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঢেউখালী নতুন বাজার সংলগ্ন আশ্রয়হীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে, হয়ে পড়েছে বসবাসের অনুপযোগী। চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিচু জমি ও বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো। অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এমনকি বাথরুম ও ঘরের সামনেও জমে থাকছে পানি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোরকমে বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব ঘরের চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিনে-রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) বলেন, ‘বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাতদিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। আমার থাকার ঘরে পানি ঢোকে, বারান্দায় পানি জমে থাকে। এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকায় সেখানে যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে হাতে ঘা হয়ে গেছে। কী করব, আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার (৩০) বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে সাতদিন পানি জমে থাকে। কয়েকদিন আগে আমার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়। মশা-মাছির উপদ্রব তো রয়েছেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, এ দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাদের মতো অসহায় পরিবারের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমি তাদের দুর্দশা দেখেছি। সত্যিই সেখানে বসবাসের পরিবেশ নেই। বিষয়টি ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে চারপাশ ঘুরিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসএপে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের পরিবেশ বসবাসের উপযোগী করা এবং পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কমেন্ট বক্স