০৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬
রাজশাহীতে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব সংগৃহীত ছবি

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন লালনশাহ মুক্তমঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। উৎসবে লালন ও কবীরের দর্শন, মানবপ্রেম, সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নাহারুল ইসলাম, লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও লালন গবেষক আবদেল মাননান এবং শিল্পী ও গবেষক হাসিবুল হাসান (হাসন রাজা)সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

বক্তারা বলেন, লালন ছিলেন মাটি, মানুষ ও মানবিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একজন মহান সাধক। তাঁর দর্শন মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। একইভাবে কবীরের বাণীতেও মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মিক উপলব্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, লালনের গান ও দর্শন কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমাজ, জীবনবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ। বর্তমান সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে লালন ও কবীরের দর্শন নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই লালনসহ দেশের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজকরা জানান, কবীর ও লালনের ভাবধারার সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মকে পরিচিত করা এবং লোকসংগীত ও সাধনসংগীতের ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উৎসবের মূল্যায়নে বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কবীর ও লালনের বাণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিনোদনের পাশাপাশি তাঁদের আত্মিক সাধনা, মানবপ্রেম ও জীবনবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

রাজশাহীতে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের আয়োজন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কবীর ও লালনের দর্শনকে যথাযথ ঐতিহাসিক ও দার্শনিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা এবং তাঁদের ভাবধারার স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ