০৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

​কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ভবন পেয়ে মহাখুশি

আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬
​কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ভবন পেয়ে মহাখুশি সংগৃহীত ছবি

এস এম মিজান, গৌরনদী (বরিশাল): নতুন স্কুল ভবন পেয়ে মহাখুশি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। বছরের পর বছর জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস করার পর, অবশেষে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবন পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।

নির্মানের শেষপর্যায়ে থাকা এ ভবনের নতুন শ্রেণীকক্ষ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সুন্দর পরিবেশ শিশুদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী ও উৎসাহিত করে তুলবে বলে আশা করেছেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক, অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী। ৪ নং আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে। উদ্বোধনের পর ভবনের নতুন শ্রেণীকক্ষ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সুন্দর পরিবেশ শিশুদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী ও উৎসাহিত করবে। তারা আরও জানিয়েছেন, ভবন নির্মানের সময় গত কয়েকমাসের টানা বৃষ্টিতে সামান্য কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিলেও পরবর্তীতে তা ঠিকাদারের লোকজনে ঠিক করে দিয়েছেন। ফলে নির্মানের শেষপর্যায়ে থাকা ভবনটি এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কৃষ্ণ দাস বলেন, স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা এখন শুধু নতুন ভবনে ক্লাশ করার অপেক্ষায় রয়েছে।

ভবন নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন-স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা যেখানে ভবন নির্মান কাজের ক্রটি দেখিয়েছেন, সেখানেই তাৎক্ষনিক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার শ্রমিক দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। ঠিকাদারের কাছ থেকে ভবনটি বুঝে নেয়াই এখন এক মাত্র কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শামীম হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ও ভবন নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তার পরামর্শে সবকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বের বাজার মূল্যের চেয়ে বর্তমানে চড়ামূল্যের বাজারে স্কুলের ভবন নির্মান করতে গিয়ে আমাদের রিতীমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। তারপরেও লাভের চিন্তা না করে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কাজের গুনগতমান শতভাগ ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। যেকারণে এ কাজে আমাদের (ঠিকাদার) লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শামীম হোসেন বলেন, এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এ স্কুল ভবনটি নির্মান করতে চেয়েছিলেন। তারা কাজ না পেয়ে আমাদের কাছ থেকে লাভবান হওয়ার আশায় নানাধরনের হুমকিও দিয়েছিলেন। সবকিছুতে ওই প্রভাবশালীরা ব্যর্থ হয়ে অতিসম্প্রতি ভবন নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গনমাধ্যমে অপপ্রচার ছড়িয়েছিলেন। অবশেষে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই প্রভাবশালীদের অপপ্রচারের কোন অভিযোগের সত্যতা পায়নি। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো.কামাল হোসেন বলেন-আমি এ উপজেলায় যোগদানের পরে বলেছিলাম, সরকারি বরাদ্দের কাজে কোনোধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ভবন পরির্দশন করে কোনধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ