ফের ভরাট ও দূষণের কবলে কোহেলিয়া নদী
সংগৃহীত ছবি
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : ফের ভরাট ও দূষণের কবলে কোহেলিয়া নদী, পেশা হারাবে জেলেসহ লক্ষাধিক লবন চাষি । গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়ন থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে লবন ও চিংড়ী চাষের জমি । অধিগ্রহণকৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য সাগর থেকে বালি উত্তোলন করে ভরাট করা হচ্ছে উক্ত জমি । সেই জমি ভরাটের পলিমাটি ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পাশের কোহেলিয়া নদীতে । এমনিতেই কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারনে প্রাণ যায়যায় অবস্থা এই নদীর । ফের নতুন করে বন্দরের পলিমাটি কোহেলিয়া নদীতে পড়ায় নদীর নাব্যতা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মনে বড় ধরনের চিন্তার ভাজ পড়েছে । একইভাবে নদীর উভয় পাশে থাকা শতাধিক চিংড়ী প্রজেক্ট ও পঞ্চাশ হাজারের মত লবন চাষির মাথায় হাত পড়েছে ।
স্থানীয়রা কোহেলিয়া নদীর পানি ব্যবহার করে প্রজেক্টে চিংড়ী চাষ ও লবন উৎপাদন করে থাকেন । যদি এভাবে পলিমাটি ও বর্জ্য ফেলা হয় তাহলে নদীর পানি দূষিত হয়ে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন । কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোছাইন জানান , নদীতে এখন মাছের বদলে পলিমাটি ও বিভিন্ন বর্জ্য ঢুকছে । আরেক জেলে এমরান জানান , বন্দরের জায়গা ভরাটের পলিমাটি গুলো ক্যানেল কেটে ফেলা হচ্ছে নদীতে , ফলে আমাদের জালে আর মাছ পাওয়া যায় না । নদীতে জাল বসালে তা পলিমাটির ভিতর আটকে যায় । জেলে ছপুর আলম জানান , নদীর পানি যেভাবে ঘোলাটে হয়েছে তাতে মনে হয় সাগর থেকে মা মাছ গুলো আসবেনা । এভাবে নদী ধ্বংস করা হলে কয়েক হাজার জেলে পরিবারে নিরব দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে বলেও মন্তব্য করেন জেলেরা । একই সাথে নদীর পানি দূষিত হলে চিংড়ী চাষ ও লবন উৎপাদনেও ব্যাঘাত ঘটবে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা ।
মহেশখালীর কোহেলিয়া নদী , এক সময় ভরা যৌবন আর গভীরতায় বাণিজ্যিক ভাবে ব্যস্ততায় স্রোতের দাপট ছিল কোহেলিয়া নদীর । নৌপথে এই নদী ব্যবহার করে বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত ছিল পণ্যবাহী নৌযান । প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি জীবন্ত নদীকে চোখের সামনে ধ্বংস করা হচ্ছে । নদী দখল করে বিশাল সড়ক নির্মাণ বিশ্বের নজিরবিহীন ঘটনা বলে মনে করেন মহেশখালীর লোকজন । পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্জ্যে নদী ভরাট ও দখল দূষণে মৃত্যুশয্যা এই নদীকে আবারো ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।
মহেশখালীর দুই লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ভাবে কোহেলিয়া নদীর সাথে জড়িত রয়েছে । এই নদী ধ্বংস করা হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা হারাবে। কোহেলিয়া নদী রক্ষা কমিটির যুগ্ন আহবায়ক মোঃ মহসিন বলেন , মহেশখালীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া কোহেলিয়া নদী হচ্ছে মহেশখালীর প্রাণ । মহেশখালীবাসির কাছে কোহেলিয়া নদীর গুরুত্ব অতুলনীয় । তাই মহেশখালীর মানুষকে বাঁচাতে হলে আগে কোহেলিয়া নদীকে বাঁচাতে হবে । উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন , কোহেলিয়া নদী শুধু একটি নদী নয়, এই নদীর সাথে জড়িত আছে লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকা । কোহেলিয়া বাঁচলে বিভিন্ন জলজ প্রাণী সহ পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে । তিনি আরো বলেন , কোহেলিয়া নদী ধ্বংস করা হলে এই নদীর উপর নির্ভরশীল পাঁচ হাজাের অধিক জেলে , লবন চাষি ও চিংড়ী প্রজেক্টে থাকা মৎস্য চাষি এবং বিভিন্ন শ্রমিক তাদের পেশা হারিয়ে বাড়বে বেকারত্ব । মহেশখালীর মানুষকে বাঁচাতে যেমন কোহেলিয়া নদীকে রক্ষা করতে হবে, একইভাবে একটা নদীকে ধ্বংস করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জানান , বন্দর ভরাটের পলিমাটি ও বর্জ্য কোহেলিয়া নদীতে ফেলার বিষয়টি অবগত নয় । এটি তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান । তবে এবিষয়ে নদী কমিশনকে অবগত করারও পরামর্শ দেন ।
কমেন্ট বক্স