০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

২৬ কোটি টাকায় ধানমন্ডি লেক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন শুরু

আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬
২৬ কোটি টাকায় ধানমন্ডি লেক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন শুরু ছবিঃ সংগৃহীত

ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে।

মন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গোটা রাজধানীবাসীর জন্যই আনন্দের খবর।

ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

শেখ রবিউল আলমের বক্তব্য, ধানমন্ডি লেক ঢাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী জলাধার। রাজধানীতে এমন কেউ নেই, যিনি এ লেকের নাম জানেন না। অনেক দিন ধরেই লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল।

তিনি জানান, নির্বাচনের সময় ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি; সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ লেকের উন্নয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। এ অর্থে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হবে।

তাঁর তথ্য অনুযায়ী, লেকের তলদেশে বহু বছর ধরে জমে থাকা স্লাজ সরানো হবে। প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা যাবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এতে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, কেবল খনন বা সৌন্দর্যবর্ধনেই কাজ শেষ নয়; লেকটিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। সে কারণেই ধানমন্ডি লেকের জন্য বিস্তারিত নকশা তৈরি হয়েছে।

নকশা অনুযায়ী লেকের চারপাশে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ নানা নাগরিক সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

লেক এলাকায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম ও নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে। ফলে কাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক কেবল একটি জলাধার থাকবে না; নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

তিনি মনে করেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। উন্নয়নের পাশাপাশি লেকের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি।

সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা হাত মেলালে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে বলেও তাঁর অভিমত।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।’

লেকের পানি পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলার অনুরোধ জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, লেক সুন্দর করে গড়ে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও। নাগরিকেরা সচেতন হলে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন এক এলাকার মানুষের বিষয় নয়; এটি পুরো ঢাকা শহরের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষকে স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ দেয়। তাই লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এর আগেও ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ ও ভারসাম্য রক্ষায় ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল।

লেককে ঘিরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়ামসহ অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা মন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন।

তাঁর মতে, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব লেকে পরিণত হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ কাজ সফলভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ