১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লি চলো আহ্বানের পরই আটক কেজরিওয়াল-মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬
দিল্লি চলো আহ্বানের পরই আটক কেজরিওয়াল-মমতা ছবিঃ সংগৃহীত

আ. আওয়াজ ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভে সংহতি জানাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পৃথক ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় দুই দলের একাধিক নেতা ও সংসদ সদস্যকেও আটক করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।

দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে আটক হন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। আটকের আগে একটি বাস থেকে প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি জানান, পুলিশ তাঁকে, আপ নেতা সঞ্জয় সিংসহ দলের অন্য নেতাদের আটক করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শোনা যায়। আটকের প্রতিক্রিয়ায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘এই স্বৈরাচারকে আমরা ভয় পাব না।’

অন্যদিকে, দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে যেতে না পেরে তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তাঁকেও আটক করা হয়। এ সময় তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকেও আটক করে পুলিশ।

অবস্থানের আগে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, তরুণেরা তাঁদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছাত্র ও যুবসমাজের পাশে থাকার কথা জানিয়ে মমতা বলেন, বাধা দেওয়া হলে তিনি বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে দীর্ঘক্ষণ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানোর অভিযোগও করেন তিনি।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে ধরপাকড় শুরু হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আরও অনেককে আটক করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের আটকের খবর উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মুম্বাইয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ