ছবিঃ সংগৃহীত
খেলাধুলা ডেস্ক: স্কোরবোর্ডে ২৪৯ রানের বিশাল পুঁজি। টি-টোয়েন্টিতে এমন সংগ্রহ নিয়েও হারতে হবে, তা হয়তো ভাবেনি ভারত। কিন্তু শাই হোপের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন হোপ, আর রাদারফোর্ড মাত্র ৩৭ বলে করেন ৮৪ রান। দুজনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৯ বল হাতে রেখেই ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।
রাঁচিতে ভারতের বিপক্ষে ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে ৬ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে দলটি। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। এর আগে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেখান থেকে হাল ধরেন হোপ। পরে রাদারফোর্ডকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি গড়েন তিনি। রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংসের পর শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান জয়কে আরও সহজ করে দেয়।
এর আগে ব্যাট হাতে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং তিলক ভার্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান যোগ করেন। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার।
রাঁচির এই ম্যাচে দুই দল মিলে তুলেছে ৫০১ রান, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মিলিত সংগ্রহ। দুই ইনিংসে ছক্কা হয়েছে ৩৩টি, চার ৪৬টি। অর্থাৎ ৭৯টি বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৩৮২ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাই বাউন্ডারি থেকে সংগ্রহ করেছে ২০৪ রান।
ব্যক্তিগত কীর্তিতেও ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে হোপের জন্য। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি আছে শুধু জনসন চার্লসের, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৯ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছেছিলেন তিনি।
হোপ ও রাদারফোর্ডের ১২০ রানের জুটিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া একই ম্যাচে দুই উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন ও শাই হোপের ৮০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলার নজিরও তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে রাঁচির ম্যাচটি রেকর্ড, রোমাঞ্চ আর রানের উৎসবে পরিণত হয়েছে।