ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহী মহানগরীর সড়কগুলো সহজে শনাক্ত করা এবং নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি রোডে সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। সংস্থাটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের উদ্যোগে আরডিএর তত্ত্বাবধানে মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে রোড সাইনবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী নিজ নিজ এলাকার ওয়ার্ড ও সড়ক নম্বর সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন।
পাশাপাশি রাজশাহীতে নতুন আসা মানুষ, দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো আরও সহজ হবে।
অপরিচিত এলাকায় ঠিকানা খুঁজে পেতে যে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়, সাইনবোর্ড স্থাপনের ফলে তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীর ক্রমবর্ধমান জনবসতি ও নাগরিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সড়কগুলোর পরিচিতি স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি। নগরীর অনেক এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সড়ক, ওয়ার্ড কিংবা ঠিকানা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে নতুন বাসিন্দা, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে নগরীতে আসা মানুষের জন্য সঠিক গন্তব্য খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে রোড সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগকে নাগরিকদের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সড়কে দৃশ্যমান ও সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড থাকলে ডাক ও কুরিয়ার সেবার কর্মী, অনলাইন পণ্য সরবরাহকারী, অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং বিভিন্ন জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ঠিকানা খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা রোগীর স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সঠিক সড়ক ও ঠিকানা শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সাইনবোর্ড সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সড়কের পরিচিতি সুস্পষ্ট হলে নাগরিকদের মধ্যে ঠিকানা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাইরের জেলা থেকে রাজশাহীতে আসা ব্যক্তি ও পর্যটকদের চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিচিত সড়ক ও নির্দিষ্ট ঠিকানা সহজে শনাক্ত করা গেলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি এবং পথ খুঁজে পাওয়ার ভোগান্তিও কমবে। নগর ব্যবস্থাপনায় সড়কের নাম, নম্বর ও দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি পরিকল্পিত নগরীর পরিচিতি ও সুশৃঙ্খল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব সাইনবোর্ড সহায়ক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে। রাজশাহী মহানগরীর সড়কগুলোতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর ঠিকানা শনাক্তকরণব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরডিএর তত্ত্বাবধানে সাইনবোর্ড স্থাপনের এ উদ্যোগ নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত, ঠিকানা শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হলে রাজশাহী মহানগরীর সড়কভিত্তিক পরিচিতি আরও স্পষ্ট হবে এবং নগরবাসীর পাশাপাশি আগত দর্শনার্থীদের জন্যও শহরে চলাচল আগের তুলনায় সহজ হবে।