১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোগান্তিতে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬
ভোগান্তিতে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ভোগান্তি বেড়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিটের মোট ৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী। তাঁদের অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পারছেন।

বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। একই সঙ্গে দুর্ভোগে পড়ছেন তাঁদের বিদায় জানাতে আসা স্বজনরাও। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগে থেকে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হলে তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়ার ৫টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে এসব নির্দেশনা দেন। চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসকে অবিলম্বে নির্দেশনাগুলো কার্যকর করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের খুদে বার্তা, ফোনকল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পরিবর্তিত যাত্রার সময়, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতে হবে। বিমানবন্দরে অবস্থানরত কিংবা পরিস্থিতি সম্পর্কে না জেনে সেখানে চলে আসা যাত্রীদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, নাশতা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি এয়ারলাইনসকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ করে তাঁর নাম, পদবি, মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেকের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং সঠিক তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। এসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এয়ারলাইনসগুলোর তথ্য সরবরাহ ও সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ