১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হকার-অটোরিকশার দখলে অচল মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়ক

আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬
হকার-অটোরিকশার দখলে অচল মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়ক ছবিঃ সংগৃহীত

প্রশস্ততা ১০০ ফুট, অথচ কোথাও কোথাও যানবাহন চলার জায়গা টিকে আছে মাত্র ১০ ফুট—ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কের এমন চিত্রই এখন স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ। রাজধানীর সড়কে জায়গার টানাটানি নতুন কিছু নয়, নগরবাসীর কাছে তা প্রতিদিনের দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে; কিন্তু এই সড়কের হাল তার চেয়েও বেশি উদ্বেগ জাগাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির প্রায় ৯০ ফুট জায়গাই বেদখলে চলে গেছে। হকারদের দোকান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল আর যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখার কারণে প্রশস্ত সড়কটির বড় অংশ কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর পরিণতিতে একদিকে যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন প্রতিদিনের ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হকারদের দোকানপাট শুধু ফুটপাতে সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়েছে মূল সড়কের ওপর পর্যন্ত। কোনো কোনো জায়গায় অস্থায়ী দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বসেছে তিন থেকে চার সারিতে। এতে ১০০ ফুট চওড়া সড়কেও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলের মতো যথেষ্ট জায়গা মিলছে না। দখল হয়ে থাকা অংশ বাদ দিয়ে যানবাহনকে চলতে হচ্ছে সীমিত পরিসরে, আর ব্যস্ত সময়ে এটিই যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভুগছেন পথচারীরা, কারণ মূল সড়কের মতো ফুটপাতও দখলে। হাঁটার নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অনেককে চলন্ত গাড়ির গা ঘেঁষে কিংবা একেবারে মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এতে ঝুঁকি বেড়েছে। সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের আনাগোনা বাড়লে নিরাপদে হাঁটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

যানজটের আরেকটি বড় উৎস ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের লাগামহীন চলাচল। এসব যানের অনেক চালককে দেখা যায় হঠাৎ লেন বদলাতে, উল্টো পথে ছুটতে, যেখানে-সেখানে থামতে এবং মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠাতে-নামাতে। এতে অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি থমকে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে আকস্মিক সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে অবৈধ পার্কিং। সড়কের দুই পাশে, প্রবেশপথে এবং বিভিন্ন সংযোগস্থলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়। হকারদের দখলের সঙ্গে এই এলোমেলো পার্কিং যুক্ত হওয়ায় সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা আরও কমে এসেছে। ফলে সামান্য পথ পাড়ি দিতেও যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এর খেসারত দিচ্ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারীরা—প্রতিদিনই। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটির এই অবস্থা স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি সামগ্রিক জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা আরও গভীর—সড়কটি এভাবে সংকুচিত থাকলে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের গাড়ি সময়মতো ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই যানজট বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

এ অবস্থায় মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়ক অবিলম্বে দখলমুক্ত করা, ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, কেবল সাময়িক উচ্ছেদ অভিযানে এ সমস্যা মিটবে না; দরকার নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে সড়কটিতে স্বাভাবিক চলাচল ফেরানোর পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ