১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের কৌশল বদলের খবরের মধ্যেই হরমুজে দুই জাহাজ ডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬
ইরানের কৌশল বদলের খবরের মধ্যেই হরমুজে দুই জাহাজ ডুবি ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কাছে কনটেইনার জাহাজ ও ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে গেছে। সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা তদারকির কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেগুলোতে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) আঘাত হেনেছিল।

ওই কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর বাইরে গত ১০ দিনেও নৌপথটির আশপাশে হামলা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করেছে।

প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা নিয়ে ইরানের কৌশল বদলের খবরের মধ্যেই দুই জাহাজ ডুবির কথা জানা গেল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ডুবে যায়। এর ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলা হয়। আগুন ধরার পর সেটি ডুবে যায়। এতে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক একটি ঘটনায় অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ ‘কেপ ডাও’ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই সময় এক ক্রু নিহত হন। বাকিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

জাহাজটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই’। ডুবে যাওয়ার খবরের পর তাৎক্ষণিকভাবে তারা মন্তব্য করেনি। আইএমও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ ডুবির তথ্য সংরক্ষণ করেছে। এতে জিএফএস প্রাইড ও কেপ ডাও যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ ডুবির ঘটনা।

দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা করতে নতুন কৌশল নিচ্ছে তেহরান। এর লক্ষ্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা।

ওই দুই কর্মকর্তা নতুন কৌশলটির বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে একটি ধারণা দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে নতুন আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেসব জাহাজ বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে মনে করা হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রয়োগ হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইরান কৌশল পরিবর্তন করেছে। তাদের রাডার ব্যবস্থাগুলোর বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে দিয়েছিল। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন ছোট নৌকায় করে নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার শুরু করেছে। স্পটাররা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ অন্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে।

ওই কর্মকর্তা গত সপ্তাহের অপ্রকাশিত একটি ঘটনার উদাহরণ দেন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয় যে, ইরানি স্পটাররা পালতোলা নৌকা থেকে কাজ করছে। আইআরজিসির কাছে এসব নৌকা থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠানো হচ্ছিল। পরে মার্কিন বাহিনী নৌকাটির পথরোধ করে আরোহীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ইরান যুদ্ধ ও এর পেছনে হওয়া খরচ অন্যতম বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা; বৈশ্বিক বাজারেও অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে।

ইরানের দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, খুব শিগগিরই এটি (প্রণালি) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এখনও ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে আছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ