সোনারগাঁয়ের সমতল ভূমিতে আনারকলি চাষে সফল দুই ভাই
সংগৃহীত ছবি
মোঃ শরীফ হোসেন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সমতল ভূমিতে বিদেশি ফল আনারকলি (প্যাশন ফ্রুট) চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও নয়ন। সোনারগাঁ পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রামে প্রায় দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ করছেন তাঁরা। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় আনারকলি চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন এই দুই উদ্যোক্তা। জানা গেছে, প্যাশন ফ্রুট স্থানীয়ভাবে আনারকলি নামে পরিচিত।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে এ ফলের চাষ হলেও সোনারগাঁয়ের সমতল ভূমিতে দুই ভাইয়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এর বাণিজ্যিক চাষ। তুলনামূলক কম বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা থাকায় ফলটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তাঁরা। সরেজমিনে দেখা যায়, রাইজদিয়া গ্রামের প্রায় দুই বিঘা জমিতে সারি সারি আনারকলির গাছ লাগানো হয়েছে। বাঁশ ও তারের তৈরি মাচায় ছড়িয়ে পড়েছে লতানো গাছগুলো। গাছের ডালে ঝুলছে কাঁচা ও পাকা ফল। বাগানের পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন উদ্যোক্তা দুই ভাই। তাঁদের বাগানে ফল দেখতে ও কিনতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসছেন। উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে বাগানে ভালো ফলন হচ্ছে। প্রতিটি ফল ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তাঁরা।
আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ভালো মানের আনারকলি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। বাজারে চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতে এ ফলের চাষ আরও সম্প্রসারণের আশা করছেন তাঁরা।দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, সোনারগাঁয়ে এর আগে কেউ বাণিজ্যিকভাবে আনারকলি চাষ করেননি। আমরা প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে এ ফলের চাহিদা রয়েছে।’ নয়ন বলেন, ‘কম পুঁজিতে ভালো একটি ব্যবসা গড়ে তোলার চিন্তা থেকেই আনারকলি চাষ শুরু করি। ভালো মানের আনারকলি প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তাই মনে হয়েছে, সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এ ফল চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব।’
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘আনারকলি বা প্যাশন ফ্রুট দক্ষিণ আমেরিকার একটি সুস্বাদু ফল। বাংলাদেশেও এখন এ ফলের চাষ শুরু হয়েছে। এবার সোনারগাঁয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ শুরু করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স