ছবিঃ সংগৃহীত
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দিনরাত কাজ করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, ‘আমরা থামব না, আমাদের থামার সুযোগ নেই। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো পর্যালোচনা হয়েছে। এবার সেগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।’শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৭-২০২৮ কার্যকালের জন্য মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনের লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণই ঠিক করবে, দেশ কারা পরিচালনা করবে। জাতীয় নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে ভোট দিলেও তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।জামায়াত আমির বলেন, মানুষ তাদের বলে, ভোট দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারেননি। তখন তাদের বলতে হয়, তাদের দুর্বলতা ছিল।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।সমাজ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা বসে বসে আর তামাশা দেখবেন না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করবেন এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।সম্মেলনে তিনি বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। যারা দিন এনে দিন খান, আল্লাহর পথে তাদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ৭০ শতাংশ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ বলে উল্লেখ করেন তিনি।রুকনদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহ যাদের সম্পদ দিয়েছেন, তাদের উচিত সেই নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করা। জান্নাতের জন্য নিজেদের ঠিকানা তৈরি করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি প্রতি মুহূর্তে তার সাহায্য কামনার আহ্বান জানান।ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই অনেক দুর্বল ছিল। নেতাকর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠন বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে।তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ যেন সবাইকে সার্থক জীবন গড়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার তাওফিক দেন। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশ কোরআনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।রুকন সম্মেলন ও আমির নির্বাচনসম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল হবে। রুকন হিসেবে জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান বজায় রাখা এবং আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।তিনি বলেন, রুকনদের মান ও রুহানিয়াত যত শক্তিশালী হবে, সংগঠনও তত শক্তিশালী হবে। আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণ দিয়ে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে সফলতা অর্জনের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাও বাড়াতে হবে। আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি মজবুত সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।সম্মেলনটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী অধিবেশনে ২০২৭-২০২৮ কার্যকালের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন ১৩ হাজারের বেশি রুকন।