ছবিঃ সংগৃহীত
সরকার দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এর প্রভাবে পণ্যের দামে ব্যাপক ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এক টাকার জিনিস মানুষকে তিন টাকায় কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখেছেন, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপযুক্ত দাম না পেয়ে কৃষকেরা ক্ষোভে লাউ খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন। অথচ রাজধানীতে একটি লাউ কিনতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। তাঁর অভিযোগ, চাঁদাবাজির কারণে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়কেই এর মূল্য দিতে হচ্ছে।
সরকার চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করতে পারেনি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে আসছিল। সেখানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে শুধু পদত্যাগ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, অপরাধের জন্য পদত্যাগ করালেই কি সব দায় শেষ হয়ে যায়? অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি কেন? জনগণকে বোকা ভাবার সুযোগ নেই, তারা সবকিছু বোঝেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নিজেদের দলের লোকেরাও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন দল করার পরও তাঁদের কাছে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে—এমন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এত দ্রুত আন্দোলনে নামার পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, ৭০ শতাংশ মানুষের রায় কেন অগ্রাহ্য করা হলো এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে জনগণকে অতিষ্ঠ করা হচ্ছে কেন—এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণও ব্যাখ্যা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সালাউদ্দিন সাহেব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে কথা বললেও নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ করার সুযোগ পান না বলে মনে হয়। সংসদে তাঁর দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুর রহমানের দাবি, মাদকের বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকার পথ দিয়ে আসে। এ ছাড়া দিনের বেলায় ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
জামায়াতের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো দলীয় বা ১১-দলীয় জোটের স্বার্থে নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।