ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাত। এ খাতের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির পরিমাণ ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার এবং প্রত্যক্ষ রপ্তানি ১৬০ কোটি ডলার। এ খাতের দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পণ্যের গুণগত মান বাড়ানো গেলে রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর হোটেল দ্য রেইনট্রিতে প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতের দক্ষতা উন্নয়নে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) আয়োজনে এবং এশিয়ান প্যাকেজিং ফেডারেশনের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এর প্রতিপাদ্য ‘স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য টেকসই ও মানসম্মত প্যাকেজিং’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ হাতেম। বিপিএএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিল্পী বেগম, এশিয়ান প্যাকেজিং ফেডারেশন ও বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল্লাহ চৌধুরী এবং বিপিএএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোজাহারুল হক শহীদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিপিএএমইএর বিপা ও পরীক্ষণাগার, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম কমিটির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক কাজী আশরাফুল হক জুয়েল ও এ টি এম কামরুজ্জামান এবং মেলা কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল করিম তমিজসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপিএএমইএর সচিব এম মাসুদুর রহমান।
প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী এবং বিপিএএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন এশিয়ান প্যাকেজিং ফেডারেশনের সম্মানসূচক সদস্য, সাবেক সচিব ও ভারতীয় প্যাকেজিং ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র সাহা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার পলিপ্যাক সেকো লিমিটেডের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন বিশেষজ্ঞ প্রাসাদ লাসান্থা কুরুকুলারাচি।
আয়োজকদের মতে, প্রশিক্ষণে প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধরন, পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষার পদ্ধতি, ঢেউতোলা তন্তু বোর্ড ও বাক্স, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং প্যাকেজিংয়ের মান মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে খাতটির উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতাও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন আহমেদ এর পটভূমি তুলে ধরেন এবং কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।