ছবিঃ সংগৃহীত
সরকার যখন দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও প্রাণিসম্পদ খাত সমৃদ্ধ করতে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে, তখন শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে দেখা গেছে চরম দায়িত্বহীনতার চিত্র। প্রায় পৌনে ৯ লাখ সরকারি জেনুইন ভ্যাকসিন কোল্ড চেইন না মেনে দুই দিন ধরে বস্তাবন্দি অবস্থায় মেঝেতে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, বরফ ও কোল্ড বক্স ছাড়াই উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে এসব মহা মূল্যবান টিকা। আর এ অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নাগরিক টিভির প্রতিনিধিকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জীবনরক্ষায় সরকার সরবরাহ করে ফাউল পক্স, রানীক্ষেত, তড়কা, খুরা রোগ ও পিপিআরের মতো জরুরি ভ্যাকসিন। নিয়ম অনুযায়ী এগুলো সব সময় নির্দিষ্ট হিমাঙ্কে ও ‘কোল্ড চেইন’ বজায় রেখে সংরক্ষণ এবং পরিবহন করার কথা। গেল ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মহাখালী প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে কুলভ্যানে করে শেরপুরে এসে পৌঁছায় বিভিন্ন রোগের প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার ৭৯০ ডোজ ভ্যাকসিন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে কুলরুমে রাখার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে—আটটি বস্তায় এসব ভ্যাকসিন টানা দুই দিন মেঝেতে সাধারণ তাপমাত্রায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর কোনো প্রকার বরফ বা আইসপ্যাক ছাড়াই চালের বস্তা ও সাধারণ ব্যাগে করে শেরপুরের ৫টি উপজেলায় এসব ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়। কোল্ড চেইন ভেঙে যাওয়ায় ভ্যাকসিনের গুণগত মান নষ্ট হয়ে তা পশুর জন্য কার্যকরের বদলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। ইতিমধ্যেই শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা অভিযোগ তুলেছেন তরকা, খুরা ও লাম্পি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও তাদের গরু রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার মূল্যবান পশু হারিয়ে অনেকে পথে বসেছেন। এবিষয়ে শেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ডা. মো. ফজলুল হক “ভ্যাকসিন পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইনাস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করি। আমরা গত ২৪ তারিখে ভ্যাকসিন পেয়ে ওই দিনই বিতরণ করেছি...” ২২ তারিখে ভ্যাকসিন রিসিভ করে ২৪ তারিখে বললেন কীভাবে? শুনে কর্মকর্তা শিডিউল খাতা দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন এবং এড়িয়ে যান। ভ্যাকসিন বিতরণের এই গড়মিল ও অনিয়ম নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার পরেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া সাংবাদিক শাহীনূর রহমান পনিরের মুঠোফোনে কল দিয়ে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। এবং বলে “তুমি কি পজিটিভ নিউজ করবা নাকি নেগেটিভ নিউজ করবা? সেটা আমার দপ্তর, এখানে আমি যা বলব তাই হবে! শেরপুরের ডিসি, এসপি, মন্ত্রী এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়ও কিছু হবে না। আমি যা বলব তাই হবে! বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা সঠিকভাবে রক্ষা না করলে ভ্যাকসিনের ভেতরে থাকা অণুজীব মারা যায় বা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, যা পশুর শরীরে প্রবেশ করালে কোনো প্রতিরোধ তো গড়ে তোলে না-ই, বরং উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। সরকারি বা বেসরকারি—যেকোনো ভ্যাকসিনের গায়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা উল্লেখ থাকে। তা না মানলে ভ্যাকসিন কাজ করবে না। তদন্তে এমন ত্রুটি পাওয়া গেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”