ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতলেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো এই সম্মান অর্জন করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, মেয়েদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে অনন্য কীর্তি গড়েছেন স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা ফুটবলারদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত আনন্দের উপলক্ষ পেয়েছেন কেইন।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। তাঁর অসাধারণ গোল করার ধারাবাহিকতায় জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ জেতে লিগ ও কাপের শিরোপা। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনের পথেও ছয়টি গোল করেন তিনি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার তাঁর হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অর।
পুরস্কার গ্রহণের পর সতীর্থদের অবদানের কথা স্মরণ করেন কেইন। তিনি বলেন, বায়ার্নের সতীর্থ ও দলের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। তাঁরা যেভাবে তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রাখেন, সে জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর জার্মান ফুটবলে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন কেইন। এর আগে টটেনহামের হয়ে ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর। ইংল্যান্ডের জার্সিতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ফাইনালেও পরাজিত দলের সদস্য ছিলেন তিনি। তবে গোল করার ধারাবাহিকতা ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে এবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেলেন এই স্ট্রাইকার।
বায়ার্নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন কেইন। তাঁর মতে, নতুন ক্লাবের সতীর্থ, দলীয় পরিবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক আবহ তাঁকে নিজের খেলাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করেছে। বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে গোল করার প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে গর্বিত তিনি।
মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা। গত মৌসুমে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে ইংল্যান্ডের ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দেন এই স্প্যানিশ ফুটবলার।
চার বছর আগে হাঁটুর গুরুতর চোটে ক্যারিয়ারের গতি থমকে গিয়েছিল পুতেয়াসের। সেই বাধা কাটিয়ে আবারও শীর্ষ পর্যায়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জয় তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি নারী ফুটবলে স্পেনের শক্ত অবস্থানেরও প্রতিফলন।
ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও তরুণ প্রতিভার স্বীকৃতি পেয়েছেন বার্সেলোনার উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। তবে সর্বকনিষ্ঠ ব্যালন ডি’অরজয়ী হওয়ার স্বপ্ন এবারও পূরণ হয়নি তাঁর।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও ব্যালন ডি’অর জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের। মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়েও এবার ব্যক্তিগত ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কার জিততে পারেননি এই ফরাসি তারকা।