ছবিঃ সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকাতে শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সমাজজুড়ে সমন্বিত সচেতনতাও বাড়াতে হবে। বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। আয়োজক ছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম।
তাঁর ভাষ্য, সড়ককে নিরাপদ করার দায় একক কোনো সংস্থার নয়। সবাই মিলে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিলে তবেই দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ সমস্যা রোধ করা যাবে।
দিবসটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই সড়কে মূল্যবান প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। জানমালের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা আর কখনো পূরণ করা যায় না। মানবিক ও সামাজিক এই বিপর্যয় কাটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উপায় খোঁজে, সে আহ্বান জানান তিনি।
মহাসড়কের এখানে-সেখানে যানবাহন ফেলে রেখে চলাচলে বাধা তৈরি করাকে তিনি গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। যারা এটা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে দেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হোক বা গাড়ির ফিটনেস সনদ, কোথাও অনিয়ম কিংবা অন্যায্য তদবির সহ্য করা হবে না।
দেশের সড়কে গাড়ি চালাতে হলে বিআরটিএর বৈধভাবে সার্টিফায়েড ড্রাইভিং লাইসেন্সই একমাত্র গ্রহণযোগ্য বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া চলা সিএনজি অটোরিকশা ও ‘চাঁদের গাড়ি’ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নানা অসামাজিক ও সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন তিনি। কোনো অপরাধী চক্র যাতে সিএনজি অটোরিকশাকে অপরাধের বাহনে পরিণত করতে না পারে, সে জন্য চালক ও মালিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে বলেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ৪২৩ জন, আহত ৬৭৪ জন।
সেই মাসে যানবাহনের ধরন ধরে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে থ্রি-হুইলারের যাত্রীদের। সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, লেগুনার মতো এসব বাহনের ৮৮ জন যাত্রী নিহত হন।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ৫,৪৯০ জন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্কলনে বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৩১,৫৭৮।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হিসাবে, দেশের মোট দুর্ঘটনার ১৭.৮৭ শতাংশ আর প্রাণহানির ১৭.৭৩ শতাংশ ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ হার ঢাকা বিভাগের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’।