ছবিঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বিধিমালা সংশোধনে অংশীজনদের মতামত কমিশনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের বক্তব্য শুনতে কমিশন আগ্রহী।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’ পর্যালোচনা নিয়ে শেয়ারবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে পুঁজিবাজারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ খাতের উন্নয়ন ছাড়া শেয়ারবাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন। তাই মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে আর্থিক সাক্ষরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া বাজারের টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান, সচেতনতা ও সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিএসইসি, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও বাজারবান্ধব করার লক্ষ্যে বিধিমালাটি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিধিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। এতে বিদ্যমান বিধিমালার বিভিন্ন বিষয়, সম্ভাব্য সংশোধন এবং পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়।
পরে আলোচনা ও মতবিনিময় পর্বে অংশীজনদের কাছ থেকে বিধিমালার বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ নেওয়া হয়। তাদের প্রস্তাব ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বিধিমালাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বিএসইসির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক ও কাস্টডিয়ান প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।