ছবিঃ সংগৃহীত
পাসের হার হোক বা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা, এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় দুই মাপকাঠিতেই ছেলেদের ছাড়িয়ে নজরকাড়া সাফল্য দেখিয়েছে মেয়েরা।
সবগুলো শিক্ষা বোর্ডের ফল একসঙ্গে ধরলে উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি।
শনিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। ফলাফলের খুঁটিনাটি সেখানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষায় বসেছিল মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন, ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন।
সব মিলিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন; এর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন আর ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। সব বোর্ডের গড় হিসাবে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের পাসের হার ৮.৫৬ শতাংশ বেশি।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেও ছাত্রীদের দাপট স্পষ্ট। এসব বোর্ডে উত্তীর্ণ ছাত্রী ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন, বিপরীতে ছাত্র ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন। শুধু সাধারণ বোর্ডগুলোর হিসাবেই তাই ছাত্রদের চেয়ে ৪৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে। পাসের হারে ছাত্রীরা পেয়েছে ৫৫.৪৫ শতাংশ, ছাত্ররা ৪৭.১৪ শতাংশ।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ হাজার ৯৪৭ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৫ হাজার ২৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, হার ৬৪.৯০ শতাংশ। ছাত্রদের বেলায় ৫০ হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৯ হাজার ২৬৯ জন, হার ৫৮.১০ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একই ছবি। সেখানে ২৮ হাজার ৮৬৩ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৯০ জন পাস করে চমক দেখিয়েছে; তাদের পাসের হার ৬১.৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে ৭৪ হাজার ৮৪ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৯ জন, তাতে ছেলেদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৫৮ শতাংশে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়েও ছেলেদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে মেয়েরা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে; তাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন, ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।