০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

জার্মানির চার শহরে বিক্ষোভ, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট ও সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬
জার্মানির চার শহরে বিক্ষোভ, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট ও সংঘর্ষ ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে অর্থের সংকট এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিবাদে জার্মানির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ কর্মসূচি রাতে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে চলা এসব কর্মসূচির একপর্যায়ে ফ্রাঙ্কফুর্টসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাতে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকা, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং সামরিক সেবার বিরোধিতা করে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠনের ব্যানারে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এতে আগে থেকেই হাজারো মানুষ অংশ নেন। একই দিন ফ্রান্সেও জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভে তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। তবে আয়োজকদের ধারণার তুলনায় এ সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধেক। ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান বিপণিবিতান এলাকার বড় একটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘জেন-জি রেগেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে এবং শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সহায়তা। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে এবং সুযোগ-সুবিধা ও দায়ের সুষম বণ্টনের পক্ষে।”

দিনের বেলা বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থলে সহিংস দাঙ্গা চলছে। কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা বা মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, একটি বন্দুকের দোকানের জানালা ভেঙে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

হেস রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পিসেক জানান, বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন চিহ্নিত বামপন্থি চরমপন্থি অনুপ্রবেশ করেছিলেন। বিক্ষোভের এমন সহিংস পরিণতিকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

পিসেক আরও বলেন, “ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলো এখনো আমাদের সবার মনে তাজা—লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা। এ বিষয়ে ফ্রান্সকে কোনো আদর্শ বা মডেল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।”



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ