০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

আমরা স্পিন ভালোভাবে সামলাতে পারতাম: শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক
আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬
আমরা স্পিন ভালোভাবে সামলাতে পারতাম: শান্ত ছবিঃ সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে স্পিনসহায়ক উইকেটেও প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণ সামলাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে এই হারের জন্য বোলারদের দায়ী করতে চান না অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা ভালো বোলিং করলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হতাশাজনক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ের তুলনায় নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, “আমি সত্যি বলতে কাউকে ছোট করছি না। তবে আমার মনে হয়, তাইজুল যতটা না ভালো বোলিং করেছেন, তার চেয়ে আমরা বেশি খারাপ ব্যাটিং করেছি। তাঁর প্রতি কোনো অনাদর না দেখিয়েই বলছি, আমার মনে হয় আমরা আরেকটু ভালোভাবে সামলাতে পারতাম।”

তাইজুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, “তাইজুল ভাই বিগত বছরগুলোতে সব সময়ই অনেক ভালো বোলিং করেন। তবে এই ম্যাচে হয়তো একটু কম ভালো বোলিং করেছেন। এটা হতেই পারে। এত বছর ধরে পারফর্ম করা একজন সেরা বোলারকে একটি ম্যাচ দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিতীয় টেস্টে তিনি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন।”

মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের ১০৫ রানের সেঞ্চুরিতে ২৭২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে নাঈম হাসানের চার উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিনে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাঈম হাসানের ৫২ রানের লড়াকু অর্ধশতক না থাকলে দলের অবস্থা আরও কঠিন হতে পারত। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান, যা দুই উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলাতে সুইপ, রিভার্স সুইপ ও কাট শটের মতো কৌশল ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এমন আক্রমণাত্মক শটের প্রয়োগ তেমন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে শান্ত স্বীকার করেন, স্পিনসহায়ক উইকেটে এসব শট কার্যকর হতে পারত। তবে ব্যাটাররা উইকেটে থিতু হতে না পারায় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। তিনি বলেন, “স্পিন উইকেটে অবশ্যই এসব ভালো বিকল্প। আমার মনে হয়, আমরা এসব শট খেলতে পারতাম, খেলা উচিতও ছিল। কিন্তু ম্যাচে প্রত্যেক ব্যাটারের পরিকল্পনা আলাদা থাকে। কেউই সেভাবে উইকেটে থিতু হতে পারেনি। তাই ওই ধরনের শট খেলার পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।” দলের ব্যাটিং সামর্থ্য বিবেচনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব ছিল বলে মনে করেন শান্ত। তাঁর ভাষায়, “আমরা কখনো স্পিন ভালো খেলি, কখনো পেস বোলিং ভালো খেলি। তবে আমাদের যে ব্যাটিং সামর্থ্য রয়েছে, সেই বিবেচনায় দলীয়ভাবে ওদের স্পিনারদের আরও ভালোভাবে সামলাতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত সেটা করতে পারিনি। তবে এখনো বিশ্বাস করি, স্পিনারদের আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল।”

টেস্টের আগে দুবাইয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা, দেশে ফিরে সীমিত সময়ের অনুশীলন এবং ব্যাটিং কোচের পরিবর্তনের কারণে প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল কি না, এমন প্রশ্নও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। তবে শান্তর দাবি, প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিটি ফরম্যাটের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া তাঁদের দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।

ম্যাচের আগে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে না পাওয়া এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিকেও দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব অনুভব করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া তাওহিদ হৃদয় প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করছিলেন। তবে ইনিংসটি বড় করতে না পারায় হতাশ শান্ত।

দ্বিতীয় ইনিংসে দলের বোলিং নিয়েও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৭০ রানের লক্ষ্য যে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, তা স্বীকার করলেও তাঁর মতে, বোলারদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। শান্ত বলেন, “আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ভালো বোলিং করিনি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ