ছবিঃ সংগৃহীত
মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে নেত্রকোণায় আজ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহর সমাজসেবা কার্যালয় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ বিন রশিদ ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাস। সুপারভাইজার মীর ইসতিয়াক আহমেদ, তাকলিমা আহসান এবং নেত্রকোণা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস. এম. মোয়াজ্জেম হোসেনও কর্মশালায় কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলোর একটি হলো ফ্যামিলি কার্ড। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন, আর চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় তা বাস্তবায়িত হবে বলে জানান তিনি।
তাঁর মতে, ফ্যামিলি কার্ড শুধু সামান্য আর্থিক সহায়তার ব্যাপার নয়। আগামী দিনে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ চাকরি, ব্যাংকিং ও নানা সুযোগ-সুবিধার যাবতীয় সেবা তথ্য নাগরিকেরা এ কার্ডের অধীনেই পাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া যেমন কোনো কাজ করা যায় না, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডও তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আইডেন্টিফিকেশন বা পরিচিতিমূলক কার্ডে রূপ নেবে বলে মনে করেন তিনি।
অতীতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অনিয়ম বা ভুলত্রুটির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন জটিলতা এড়াতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ খুবই জরুরি।
মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের তিনি পরিপূর্ণ সততা, আন্তরিকতা ও ধৈর্য নিয়ে সাধারণ মানুষের কথা শুনে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন। কেউ রেগে কথা বললেও ধৈর্য ধরে তা শোনার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সহায়ক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
কর্মশালায় জানানো হয়, দ্বিতীয় ধাপে নেত্রকোণা পৌরসভায় ১ জন সুপারভাইজার ও ২৭ জন তথ্য সংগ্রহকারীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ৪ জন সুপারভাইজার ও ৪৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী মিলে ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে পৌরসভার আনুমানিক ২৯,৭৭৩টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজে তুলবেন। আর পিএমটি পদ্ধতিতে ডাটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। পরবর্তী ৩ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে। উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডটি হবে সুবিধা সম্বলিত, যা সরকারের টাকা পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এতে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের ‘পয়েন্ট অব সেলস’ ও ‘মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস’ থেকে উপকারভোগীরা ভাতা তুলতে পারবেন।
শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসার মো. মহিবুল্লাহ্ হকের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণার্থীদের মাঠপর্যায়ে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।