০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনে ত্রাণকেন্দ্রে রুশ হামলায় নিহত ২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬
ইউক্রেনে ত্রাণকেন্দ্রে রুশ হামলায় নিহত ২৬ ছবিঃ সংগৃহীত

ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামের একটি স্কুলে রুশ বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। স্কুলটি বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, সামনের সারির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সোমবার সেখানে এসে ত্রাণ সংগ্রহ করতেন। হামলার সময়ও সেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জেলেনস্কি বলেন, মানুষ সেখানে আসার পর রাশিয়া প্রথমে কয়েকটি বিমান বোমা দিয়ে হামলা চালায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় আশ্রয়কেন্দ্রটিকে লক্ষ্য করে আরও বোমা ফেলা হয়। এ ঘটনাকে তিনি ‘জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেন।

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। জাপোরিজিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেনকো জানান, এ ঘটনায় ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া উত্তেজনা কমানো কিংবা ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী নয়—এ ঘটনা তার আরেকটি প্রমাণ। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওলেশকি শহরে শেষ হওয়া মানবিক মিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ ছিল। ইউক্রেন সে প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু রাশিয়া হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, রাশিয়া দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এমন চাপ তৈরি করতে হবে, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটানো ছাড়া রাশিয়ার সামনে আর কোনো বিকল্প না থাকে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন বৈঠকের ঘোষণা দেন। ১০ ও ১১ নভেম্বর আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা চুক্তি, উত্তেজনা কমানো, মানবিক উদ্যোগ এবং যুদ্ধের অবসানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। এর আগে সেন্ট পিটার্সবার্গে উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্‌লাদিমির পুতিন এ আলোচনায় সম্মতি দেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে রাশিয়ার অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালতের মাধ্যমে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাশিয়ার নিন্দা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে থাকা উচিত; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে ফিরে আসার নয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ