০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

টানেল, স্টেশন, ট্র্যাক ও সিগন্যালিং: পাতাল মেট্রো এমআরটি লাইন-১-এর চার প্যাকেজে চুক্তি সই

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬
টানেল, স্টেশন, ট্র্যাক ও সিগন্যালিং: পাতাল মেট্রো এমআরটি লাইন-১-এর চার প্যাকেজে চুক্তি সই ছবিঃ সংগৃহীত

চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই হয়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর, যা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

আজ বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকার মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিগুলো সম্পন্ন করে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে; এর অবকাঠামো উন্নয়নে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।

প্রধান অতিথি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন, যাতায়াতে সময় কমিয়ে আনা এবং নাগরিকদের আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর একটি। সেই লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের বিস্তারসহ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী নগর গণপরিবহন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত খুলবে। এ প্রকল্পে জাপান সরকারের দীর্ঘ সময়ের সহায়তা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

চার প্যাকেজের চুক্তি সইকে এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের পথে তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক আখ্যা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানান সচিব। শ্রম আইনসহ দেশের প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইন মেনে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশনাও দেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণের কারণে সাধারণ মানুষের যে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হবে, তা যেন দীর্ঘ না হয়—সে জন্য প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে।

পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আশপাশের বাসিন্দাদের কল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকল্প সফল করতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে স্বচ্ছ, ধারাবাহিক ও কার্যকর সমন্বয় এবং যোগাযোগ থাকা জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের স্থবিরতা কাটিয়ে কাজ আবার শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে তিনি বিশেষ ধন্যবাদ দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার সম্পর্ক সামনেও বজায় থাকবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে পাশে থাকতে আগ্রহী জাপান।

এমআরটি লাইন-১-এর চার প্যাকেজে যে কাজ হবে

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৪ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১-এর মোট ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট তৈরি হবে এই প্যাকেজে।

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৬ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত মোট ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট নির্মিত হবে এই প্যাকেজের অধীনে।

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৯ (ট্র্যাক ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম): এমআরটি লাইন-১-এর ট্র্যাক ওয়ার্কস (রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং ইত্যাদি) এবং ইলেকট্রিক্যাল ফ্যাসিলিটি বসানো হবে এ প্যাকেজে।

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-১০ (সিগন্যালিং, টেলিকমিউনিকেশন, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম): এর আওতায় বসবে সিগন্যালিং সিস্টেম (কমিউনিকেশন বেজড অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোলিং সিস্টেম), টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম (অপটিক্যাল ফাইবার বেজড ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ও এলটিই প্রযুক্তির রেডিও কমিউনিকেশন ব্যবস্থা), প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস)।

চার প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে। ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াত চাহিদা সামলানো, যানজটের চাপ হ্রাস এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ার প্রচেষ্টাও এতে আরও এগোবে।

প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং চুক্তি সইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ