০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

সাফের আগে প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন, আত্মবিশ্বাসী বাফুফে

ক্রীড়া ডেস্ক
আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬
সাফের আগে প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন, আত্মবিশ্বাসী বাফুফে ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই টুর্নামেন্টে নামতে হচ্ছে জাতীয় দলকে। অন্যদিকে টিকিটের চড়া দাম এবং প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিতে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

আট বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে বসছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে ছয় দলের এই প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, এবারের আসরে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী। শুধু শিরোপা জয় নয়, শুরু থেকেই বাংলাদেশের খেলায় জয়ের মানসিকতা ও আধিপত্য দেখতে চান তিনি।

তবে টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের তেমন সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি দলটি। গত ১ অক্টোবর জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হারের পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেনি জাতীয় দল। ফলে সাফের আগে নিজেদের প্রকৃত প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করার সুযোগ পাননি কোচ থমাস ডুলি। এক মাস আগের সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ, তার পরীক্ষা হবে মূল প্রতিযোগিতায়।

প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলাকে অবশ্য বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বাফুফে সভাপতি। তার ব্যাখ্যা, ফিফা উইন্ডোর বাইরে থাকায় বিদেশি দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন ছিল। তবে ঘরোয়া লিগ চলমান থাকায় খেলোয়াড়েরা ম্যাচের মধ্যেই ছিলেন। লিগের সর্বশেষ তিন রাউন্ডে প্রত্যেক খেলোয়াড় ছয়টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ও ছন্দ সাফে কাজে লাগবে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খেলোয়াড় সংকট। চোটের কারণে বংশোদ্ভূত ফুটবলার রোনান সুলিভান দল থেকে ছিটকে গেছেন। অন্যদিকে ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না হামজা চৌধুরীকেও। তবে এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবিথ। ২৮ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এদিকে রোনান সুলিভানের পরিবর্তে মাহে খান প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।

আগামী ৫ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। একই দিন রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। অপর গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি আয়োজন ঘিরেও প্রত্যাশিত উন্মাদনার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই দিন আগে দলগুলোর ঢাকায় আগমন, প্রচার-প্রচারণা এবং সার্বিক আয়োজন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তেমন আগ্রহ তৈরি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তাবিথ নিজেও। তার দাবি, জাতীয় দলকে ঘিরে আগ্রহ বাড়াতে বাফুফে কাজ করছে। অনুশীলন দেখতে না পারা নিয়ে দর্শক ও সংবাদকর্মীদের অভিযোগকেও তিনি ফুটবলের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েও বাফুফে ও সাফের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। তাবিথের ভাষ্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আয়োজক সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। টেলিভিশন স্বত্ব, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্র‍্যান্ডিং ও টুর্নামেন্টের বাজেটের দায়িত্ব তাদের। বাফুফে কেবল সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এমনকি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে বাফুফের নিজস্ব কোনো খরচ হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে স্বাগতিক দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণে বাফুফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে টিকিটের দাম নিয়ে। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্লাব হাউসের টিকিট ৪ হাজার, ভিআইপি গ্যালারি ৭ হাজার, রেড বক্স ৮ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিটের দাম ১০ হাজার টাকা। এক দিনের টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও সাধারণ দর্শকের জন্য এই মূল্য অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন অনেকে। এরই মধ্যে টিকিট বিক্রির ধীরগতিও গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ফাঁকা থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে দর্শকসংখ্যা বাড়বে এবং স্টেডিয়াম খালি থাকবে না বলে বিশ্বাস তাবিথের। তবে অন্য ম্যাচগুলোতে দর্শক উপস্থিতি কেমন হবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। টিকিটের দাম নির্ধারণে বাফুফের সরাসরি ভূমিকা না থাকার কথা জানালেও স্বাগতিক হিসেবে সাধারণ দর্শকের নাগালের মধ্যে টিকিট রাখতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ