০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পুতিনকে ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ বলে যা বার্তা দিলেন শি জিনপিং

অনলাইন প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬
পুতিনকে ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ বলে যা বার্তা দিলেন শি জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এপি

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বিষয়ে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বেইজিং সফরে বুধবার (২০ মে) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, শি জিনপিংও দুই দেশের মধ্যে ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা’র ওপর জোর দিয়েছেন। অতীতেও দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করেছেন। একসময় শি পুতিনকে তার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন শিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু, আপনাকে দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি সহকারীদের মাধ্যমেও আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখছি।

দুই নেতা জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বন্ধুত্ব চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছে বেইজিং ও মস্কো। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। বেইজিং সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ক্রেমলিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

শির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, রুশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও রাশিয়া নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং চীন দায়িত্বশীল ভোক্তা হিসেবে রয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’র প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প ও সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

রুশ প্রেসিডেন্টের এক সহকারী জানান, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে রাশিয়ার তেল রফতানি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিতেও রাশিয়া এখন চীনের অন্যতম বড় সরবরাহকারী।

এদিকে পুতিনের দুই দিনের সফরে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট চুক্তির চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করা এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরা।

উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই শি জিনপিং বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিকভাবে পুতিনকে স্বাগত জানান। অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রাম্প ও পুতিনের বেইজিং সফরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ